জরুরী বার্তা | www.joruribarta.com
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২০ পিএম
বাংলাদেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অর্থনীতির জন্য বড় সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কিন্তু এই সুযোগ চিরস্থায়ী নয়। পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে না পারলে আগামী দুই দশকের মধ্যেই জনসংখ্যাগত সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশ।
বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে এমন সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর ঢাকায় প্রকাশিত Demographic Change in South Asia: From Tailwinds to Headwinds for Development শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় কর্মক্ষম বয়সীদের অনুপাত ২০৪৫ সালের দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এরপর বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তনের কারণে অর্থনীতির ওপর প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চাপ বাড়তে পারে।
সুযোগ আছে, কিন্তু প্রস্তুতি কতটা?
অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, কোনো দেশে কর্মক্ষম বয়সের মানুষের অনুপাত বেশি থাকলে উৎপাদন, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়। একে বলা হয় ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক সুফল।
বাংলাদেশ বর্তমানে এই সুবিধা পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। তবে শুধু তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি হলেই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। তাঁদের জন্য উৎপাদনশীল কাজের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের সামনে এখনো প্রায় দুই দশকের সুযোগ থাকলেও কর্মসংস্থানের ঘাটতি, দক্ষতার অভাব এবং শ্রমবাজারে নারীদের তুলনামূলক কম অংশগ্রহণ এই সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
৮৪ শতাংশ কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে
প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বাংলাদেশের প্রায় ৮৪ শতাংশ কর্মী অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। সংখ্যার হিসাবে যা প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ।
এ ধরনের কর্মসংস্থানে অনেক ক্ষেত্রেই চাকরির নিরাপত্তা, নিয়মিত আয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং অবসরকালীন সুবিধার নিশ্চয়তা সীমিত থাকে।
শুধু উচ্চশিক্ষা অর্জন করলেও আনুষ্ঠানিক চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করা ব্যক্তিদের প্রায় ৪৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করছেন।
এ পরিস্থিতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধানকে সামনে নিয়ে এসেছে।
২০৫১ সালের মধ্যে প্রবীণ সমাজে রূপান্তরের পূর্বাভাস
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশের বয়স হবে ৬৫ বছর বা তার বেশি। এর মাধ্যমে দেশটি জনমিতিক হিসাবে বয়স্ক সমাজে রূপান্তরের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
২০৫১ সালের মধ্যে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের অনুপাত ১৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তখন বাংলাদেশকে ‘প্রবীণ সমাজ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হবে।
অর্থাৎ, দেশটির সামনে একই সঙ্গে দুটি বড় দায়িত্ব রয়েছে—বর্তমান কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে মনে করেন, বাংলাদেশের জনমিতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো নির্ভর করছে এখন নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর ওপর।
তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করতে হবে, তরুণদের বাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তুলতে হবে এবং নারীদের কাজে অংশগ্রহণের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।
বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সহজ করা, শিক্ষার মান বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাত শক্তিশালী করার মাধ্যমেও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক জনসংখ্যার অনুকূল পরিবর্তন মাথাপিছু প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বছরে গড়ে প্রায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট অবদান রেখেছে।
২০২৫ থেকে ২০৪৪ সালের মধ্যে এই অবদান কমে প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টে নামতে পারে। ২০৪৫ সালের পর জনসংখ্যার বয়সগত পরিবর্তনের প্রভাব নেতিবাচক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এগুলো পূর্বাভাস, নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল নয়। অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় উন্নতির মাধ্যমে পরিস্থিতি প্রভাবিত করা সম্ভব।
এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা।
একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, পেনশন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের কাছে বিশ্বব্যাংকের এই সতর্কবার্তা কেবল জনসংখ্যার হিসাব নয়; এটি বাংলাদেশের আগামী কয়েক দশকের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। সময়মতো প্রস্তুতি নেওয়া গেলে বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী উন্নয়নের চালিকাশক্তি হতে পারে। অন্যথায় সেই সম্ভাবনার বড় অংশ অপূর্ণ থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক: মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন খান
নির্বাহী সম্পাদক: সাঈদ মোহাম্মদ আদনান খান
বার্তা সম্পাদক: আয়শা জান্নাত খানম
ডিজিটাল বস : মোহাম্মদ রাকিব হোসাইন খান
Email: joruribarta@gmail.com
Publisher & Editor In Chief:
Contact No:+880 1841632000
Address: Plot-371/A, Block-C, Bashundhara Residential Area, Baridhara. , Dhaka, Bangladesh, 1229
স্বত্ব জরুরী বার্তা
Developed by Vida Team